advertisement

পাহাড়ে আমের মুকুল: আশার পাশাপাশি আশঙ্কায় চাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

এপ্রিল ০১, ২০২৬, ০৮:০৫

পাহাড়ে আমের মুকুল: আশার পাশাপাশি আশঙ্কায় চাষিরা
ছবি: সংগৃহীত

খাগড়াছড়ির পাহাড়জুড়ে এখন আমের মুকুলের সমারোহ। দূর থেকে তাকালে মনে হয় সবুজ পাহাড় যেন সোনালি মুকুলের গালিচায় মোড়া। মধুমাসের আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতিতে হাজির হয়েছে আমের মুকুল, আর বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে এর মিষ্টি ঘ্রাণ।


জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাহাড়ি ঢালজুড়ে থাকা আমবাগানগুলোতে গাছে গাছে ফুটেছে মুকুল। এতে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় আম চাষিরা। বাগানে বাড়তি পরিচর্যা, সেচের ব্যবস্থা এবং রোগবালাই দমনে সতর্ক নজরদারি চালাচ্ছেন তারা।

featured banner


তবে আশার পাশাপাশি রয়েছে আশঙ্কাও। পাহাড়ি এলাকায় চলমান তীব্র তাপদাহ ও বৃষ্টির অভাবে অনেক বাগানেই মুকুল ঝরে পড়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। পর্যাপ্ত সেচব্যবস্থা না থাকায় খরার সময় মুকুল টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন তারা।


খাগড়াছড়িতে বর্তমানে আম্রপালি, দেশি কাঁচামিঠা, মল্লিকা, বারি-৪ ও বারি-১১ জাতের পাশাপাশি বিশ্বের দামি জাত সূর্যের ডিম, কিউজাই ও রেড পালমার আমের চাষ হচ্ছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি করছে স্থানীয় উদ্যোক্তারা।


খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়ি গ্রামের কৃষক এবং গ্রীন লাইফ এগ্রো ফার্মের কর্ণধার মংশিতু মারমা বলেন, ‌‌‘এবার গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। আমরা নিয়মিত পরিচর্যা করছি। কিন্তু বৃষ্টি না হলে বা তাপমাত্রা বেশি থাকলে মুকুল ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেচের স্থায়ী ব্যবস্থা হলে উৎপাদন আরও বাড়বে।’


স্থানীয় আমচাষিরা জানান, পাহাড়ি এলাকায় অধিকাংশ আমবাগান ঢালু জমিতে হওয়ায় সেচের স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন। ফলে বৃষ্টির ওপরই অনেকটা নির্ভর করতে হয়। তাদের মতে, সরকারি প্রকল্পের আওতায় ওয়াটার ইরিগেশন সিস্টেম বা পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত মুকুল ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব।


কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে খাগড়াছড়ি জেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ করেছেন প্রায় ১০ হাজার কৃষক। প্রতিবছরই নতুন নতুন বাগান গড়ে ওঠায় জেলার আম উৎপাদনও বাড়ছে।


খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘জেলার অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির গুণগতমান আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এজন্য প্রতি বছরই নতুন নতুন বাগান তৈরি হচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে এবারও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।’


তিনি আরও জানান, সময়মতো সেচ, পোকামাকড় দমন এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে পরিচর্যা করতে পারলে পাহাড়ি আম দেশের বাজারে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

google-news-feed আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সম্পর্কিত খবর
মহেশখালীতে দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

মহেশখালীতে দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

তামাকের বিকল্প সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনা কৃষক দম্পতির

তামাকের বিকল্প সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনা কৃষক দম্পতির

মৌচাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন মাগুরার যুবক

মৌচাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন মাগুরার যুবক

নড়াইলে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সাদা ভাঁট ফুল

নড়াইলে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সাদা ভাঁট ফুল

বাংলাদেশের মাটি ভেন্না চাষের জন্য উপযোগী

বাংলাদেশের মাটি ভেন্না চাষের জন্য উপযোগী

খাগড়াছড়িতে বাড়ছে তামাক চাষ, কমছে খাদ্যশস্যের আবাদ

খাগড়াছড়িতে বাড়ছে তামাক চাষ, কমছে খাদ্যশস্যের আবাদ

সর্বশেষ সংবাদ